ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নে জামায়াতের রাজনীতিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ— ভোটের স্বার্থে জামায়াত এখন আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। সম্প্রতি লেমুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, তারা বালু মহলের টাকা ইউনিয়ন পরিষদের ৩০ কেজি চালসহ ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সহায়তার টাকা-পয়সা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এমনকি আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ উদ্দিন নাসিমের দেহরক্ষী মোশারফের পরিবারকে জামায়াত নেতা বাবুল ওরফে “ডিম বাবুল” মোঃ আরিফ,এবং জিয়াউল হক তুহিনসহ আরও কয়েকজন ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এমন প্রচারণা করা হয়েছে স্থানীয় জামায়তের পক্ষ থেকে । এর আগে ডিম বাবুল ও তুহিন নাসিমের ঘনিষ্ঠ যুবলীগ নেতা শংকর শীলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ গেলে বাঁধা দেন এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, নাসিমের দেহরক্ষী মোশারফ একসময় আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চরম নির্যাতন চালাতেন। এমনকি যখন জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, তখন তিনি ফেনী ও লেমুয়ায় হিন্দু যুবলীগ নেতাদের নিয়ে মিছিল করেছিলেন। কেরোনিয়া মসজিদে জামায়াত নেতাদের বৈঠক ভেঙে দিয়ে মসজিদ ঘেরাও ও লেমুয়া একাডেমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সমাজ কমিটির গণ্যমান্য ব্যক্তি মোঃ হারুন, সেলিম তালুকদার, মোঃ শাহাদাত, মহিউদ্দিন, এরা বলেছে সমাজের পক্ষ থেকে টাকাগুলো উত্তোলন করে মোশারফের পরিবারকে দেয়া হয়েছে এখানে জামায়াতের নাম কেন আসলো এই অপপ্রচার কারা করল। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, “জামায়াত সস্তায় ভোটের রাজনীতি করছে। আওয়ামী লীগের যেসব অপরাধী অতীতে এলাকায় সন্ত্রাস ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে জামায়াত এখন ভোটের জন্য সুবিধা নিতে চাইছে।” তাদের মতে, এ ধরনের আপসনির্ভর রাজনীতি গণতন্ত্র বা সাধারণ মানুষের জন্য শুভ হতে পারে না।