ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর উপলক্ষে কাওড়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রথম বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মোহাম্মদ আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাত্পর্য তুলে ধরে বলেন, “৭ই নভেম্বর হলো আমাদের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা রক্ষা, সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক অবিস্মরণীয় দিন।” তিনি আরও যুক্ত করেন, “জাতীয় ঐক্যই একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভেদ নয়, ঐক্য; সংঘাত নয়, সম্প্রীতি—এই হোক আমাদের পথচলার অঙ্গীকার। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় সংহতির কোনো বিকল্প নেই।”
শিক্ষিকাদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তার। চেতনার গভীরতা নির্দেশ করে তিনি বলেন, “সিপাহী-জনতার যৌথ অভ্যুত্থানে অর্জিত সংহতি আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রতীক।”
শিক্ষক প্রতিনিধি জনাব ফররুখ আহমেদ তাঁর বক্তব্যে দিবসটির শিক্ষণীয় দিক উল্লেখ করে বলেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অনৈক্য ও ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একতাবদ্ধ হতে হয়।”
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক জনাব জসিম উদ্দিন তাঁর দূরদর্শী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।” আলোচনা শেষে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশের স্বাধীনতা ও সংহতি রক্ষার আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে এডহক কমিটির সভাপতি রিপন আল আজাদ উপস্থিত সকলকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যে জাতি ঐক্যবদ্ধ, সে জাতিকে কোনো শক্তিই পরাজিত করতে পারে না। দেশপ্রেম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনে গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশ।”
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ.টি.এম. শাজাহানের চমৎকার ও সাবলীল সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরম করুণাময়ের দরবারে দেশ ও জাতির সার্বিক সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বীর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।




