কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
নিহত মোছাঃ ফরিতন (৩২) রৌমারী উপজেলার ফুলকার চর গ্রামের কাতার প্রবাসী মোঃ ফারুক আহমেদের স্ত্রী। সন্তান প্রসবের জন্য তাকে রৌমারী শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে কলেজ রোডে অবস্থিত নিরাময় হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসক মোঃ নাহিদ পারভেজ (বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ১৩১৫৯২) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার পর থেকেই ফরিতনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় নবজাতক শিশুটি জীবিত থাকলেও মাকে হারিয়ে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্বজনদের দাবি, চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভিড় করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক মোঃ রিয়াদ হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চিকিৎসক মোঃ নাহিদ পারভেজ ও হাসপাতালের মালিক মোঃ রিয়াদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার সচেতন মহল ও নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা ক্লিনিক পরিচালনায় অনিয়ম ছিল কি না তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগগুলো নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নির্ধারিত হবে।)