কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে মাদক সিন্ডিকেটকে সহযোগিতা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব, পেশাগত পরিচয় ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পর্ককে ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে মাদক কারবারিদের নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন। এতে সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী অবস্থান ও সামাজিক সচেতনতার কথা বললেও গোপনে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যক্তির সহযোগিতায় মাদক কারবারিরা সহজেই বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত, অবস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে মাদক পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইয়াবা পাচারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটলেও এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি। এর মধ্যে যদি কোনো প্রভাবশালী মহল বা ব্যক্তি মাদক সিন্ডিকেটকে সহায়তা করে, তাহলে মাদক নির্মূল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, কিছু ব্যক্তি নিজেদের “সাহেব পরিচয়” ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও নানা সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। অর্থের বিনিময়ে এসব সহযোগিতার কারণে মাদক কারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তারের পাশাপাশি অস্ত্র বাণিজ্য, চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বেড়ে চলেছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় সামাজিক অবক্ষয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবারগুলোতে অশান্তি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন এবং এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জানান অনেকে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যের ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করতে হবে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অপরাধ পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হ্নীলা ইউনিয়নকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
