1. infoobayedcommunicationit@gmail.com : obayed it : obayed it
  2. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
  3. bot@local.invalid : Service Bot :
  4. infoobayed@gmail.com : infoobayed :
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ভ্যানচালক হত্যাচেষ্টা মামলা: গ্রেপ্তার দেখানো হলো নাসার চেয়ারম্যান নজরুলকে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে ভালো স্থানীয় নির্বাচন করতে চাই: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামালপুরের ইসলামপুর ব্রহ্মপুত্র নদে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ রাষ্ট্রের প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য: প্রেস সচিব সালেহ শিবলী আদমদীঘিতে অবৈধভাবে হারপিক ও খাবার স্যালাইন তৈরির অপরাধে ৬ মাসের কারাদণ্ড নন্দীগ্রামে লাইসেন্স বিহীন অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি’র দায়ে মোবাইল কোর্টে সার ব্যবসায়ী’র ৫৫হাজার টাকা জরিমানা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহ বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ অভিযোগের পরও বন্ধ হয়নি চিকিৎসা, ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

অভিযোগের পরও বন্ধ হয়নি চিকিৎসা, ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

বাদল সরকার
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের কলেজ মোড় এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সনদ ও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ ওঠা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও ওই ব্যক্তি এখনো রোগী দেখছেন এবং ‘বডি এনালাইজার’ নামের একটি যন্ত্র ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় ও  চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, মো. শফিকুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখছেন। কাশীপুর কলেজ মোড় এলাকায় ‘মোজাহিদ মেডিসিন কর্নার’ নামে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি তিনি রোগীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নির্ণয় ও চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও লিখিত অভিযোগে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম প্রথমে একটি গার্মেন্টস ও পরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরবর্তীতে কাশীপুর কলেজ মোড় এলাকায় ওষুধের দোকান চালু করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ‘বডি এনালাইজার’ নামের একটি যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীর শরীর স্ক্যান করে বিভিন্ন রোগ শনাক্তের কথা বলা হয়। এরপর রোগীদের বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের নামও দেখা যায়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, Tab. Solupred 8 mg, Tab. Predixa 8 mg-সহ বিভিন্ন ওষুধ রোগীদের ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এসব ওষুধ প্রয়োজন কি না, তা যথাযথ চিকিৎসা মূল্যায়ন ছাড়া নির্ধারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার বছর ধরে চিকিৎসার নামে এ কার্যক্রম চালিয়ে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী দেখা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন, অন্যদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২৮ জুলাই ২০২৬ কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জনের কাছে স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর(অভিযোগ নম্বর ccms2026-131621171456), পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারীরা। কিন্তু একাধিক দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও কথিত ওই চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

অভিযোগকারীদের একজন মো. মিলন সরকার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখতে পাইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে সিভিল সার্জন মহোদয়ের নির্দেশে ফুলবাড়ী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহোদয় এর অফিসে ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক ডাক্তারদের উপস্থিতিতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুখোমুখি বসিয়ে বিষয়টি যাচাই বাচাই করে সত্যতা প্রমাণিত হলেও কাশীপুর কলেজ মোড় থেকে স্থান পরিবর্তন করে কাশিয়াবাড়ী নামক জায়গায় ওই ব্যক্তি আগের পদ্ধতিতেই নতুন চেম্বার খুলে রোগী দেখছেন। ফলে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে স্থানীয় সচেতন মহল দাবী করেন।”

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তার চিকিৎসা পেশার নিবন্ধন রয়েছে কি না এবং রোগী দেখার বৈধ অনুমোদন আছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সনদ ও অনুমোদন না থাকলে একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে রোগী দেখছেন এবং ব্যবস্থাপত্রে বিভিন্ন ওষুধের নাম লিখছেন। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

অভিযোগকারীরা জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নিবন্ধন পরীক্ষা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘বডি এনালাইজার’ যন্ত্রটির কার্যকারিতা, অনুমোদন ও চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের বৈধতাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চান তারা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com