নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে অবৈধ মাটি কাটার ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এবং রাতে অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র ধানী জমির উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি জমির উৎপাদনশীলতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জনসাধারণের চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় প্রশাসনের চাপ এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে মাটি কাটা অনেকটাই বন্ধ থাকে। তবে রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এই চক্র। গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক ব্যবহার করে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অবৈধ পুকুর খনন করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে জমিগুলো ক্রমেই কৃষির অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
মাটি কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় পানি জমে থাকছে, ফলে ফসল উৎপাদন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
শুধু কৃষিজমিই নয়, এই অবৈধ মাটি পরিবহনের কারণে এলাকার রাস্তাঘাটও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে কাঁচা ও পাকা উভয় ধরনের সড়কই ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অভিযান পরিচালিত হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের কারণে এসব কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাটি ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দিনে কিছুটা শান্ত থাকলেও রাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা প্রশাসনের দূর্বলতা ও কিছু দলীয় নেতা ব্যক্তিবর্গের নামে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকির মুখে পড়তে হয়। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অবিলম্বে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
এদিকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং জনদুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দেবে।