1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পবিপ্রবিতে জিওস্পেশাল ও ড্রোন প্রযুক্তি বিষয়ক দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু সোনাতলায় সিনিয়র শিক্ষক জামাল উদ্দিনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী ও তার কোলে থাকা শিশুর মৃত্যু টেকনাফ সাংবাদিক সমিতি (টেসাস)-এর আহ্বায়ক কমিটি গঠন, অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার জোয়ার প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে রংপুরের তরুণীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের একটি টাকাও ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করবো না: এমপি আবু তালেব মন্ডল। প্রশাসনের চোখকে ফাকি দিয়ে মান্দায় রাতের আঁধারে মাটি লুট: ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত কৃষিজমি ও জনজীবন। জামালপুরের ইসলামপুর মসজিদের ইমামের বিদায় ও দোয়া নীলফামারীতে ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন, পিরোজপুরে মালিককে জরিমানা

প্রশাসনের চোখকে ফাকি দিয়ে মান্দায় রাতের আঁধারে মাটি লুট: ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত কৃষিজমি ও জনজীবন।

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে অবৈধ মাটি কাটার ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এবং রাতে অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র ধানী জমির উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি জমির উৎপাদনশীলতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জনসাধারণের চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় প্রশাসনের চাপ এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে মাটি কাটা অনেকটাই বন্ধ থাকে। তবে রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এই চক্র। গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক ব্যবহার করে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অবৈধ পুকুর খনন করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে জমিগুলো ক্রমেই কৃষির অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

মাটি কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় পানি জমে থাকছে, ফলে ফসল উৎপাদন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

শুধু কৃষিজমিই নয়, এই অবৈধ মাটি পরিবহনের কারণে এলাকার রাস্তাঘাটও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে কাঁচা ও পাকা উভয় ধরনের সড়কই ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অভিযান পরিচালিত হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের কারণে এসব কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাটি ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দিনে কিছুটা শান্ত থাকলেও রাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমরা প্রতিবাদ করলে তারা প্রশাসনের দূর্বলতা ও কিছু দলীয় নেতা ব‍্যক্তিবর্গের নামে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকির মুখে পড়তে হয়। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অবিলম্বে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

এদিকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং জনদুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দেবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com