জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি যে ৩১ দফার অঙ্গীকার করেছিল, তা থেকে তারা সরে এসেছে। নির্বাচনের আগে দলটি বলেছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে এবং রাষ্ট্র সংস্কার করবে। কিন্তু নির্বাচনের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও তারা একটি অঙ্গীকারও বাস্তবায়ন করেনি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে গুম, হত্যা, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামাদের ওপর হামলা এবং হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবিসহ বিভিন্ন ন্যায্য আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। সে সময় দেশের মানুষ দুটি প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়েছিলেন—একটি ছিল শেখ হাসিনার শাসন থেকে মুক্তি এবং অন্যটি ছিল ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের শাসন আর ফিরে না আসে, সে জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন সেই গণভোটের রায় আর মানা হচ্ছে না।

আখতার হোসেন আরও বলেন, বিএনপির নেতারা তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে সম্প্রতি একটি নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। ওই আয়োজন শেষে তারা আবারও ৩১ দফা বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকেই সরে এসেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি শুধু গণভোটের রায়ই অস্বীকার করছে না, তারা নিজেদের ৩১ দফার অঙ্গীকার থেকেও সরে এসেছে। ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হলেও এখন তারা আর সংবিধান সংস্কার চায় না। একইভাবে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নতুন কাঠামোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হলেও এখন তারা সে অবস্থানেও নেই।

তিনি আরও বলেন, জনগণ এনসিপির প্রতি আস্থা রেখেছে। নতুন দল হয়েও সীমিত সংখ্যক আসনে নির্বাচন করে জনগণের ভোটে আমরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি। সেই আস্থার জায়গা থেকেই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এনসিপি-সমর্থিত প্রার্থীরা অংশ নেবেন। আমরা পুরোনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই না; আমরা নতুন বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, উত্তরবঙ্গ দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা নেই, নেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা। উত্তরবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। তাই জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জলঢাকার পথসভা শেষে রাতে নেতারা নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আরেকটি পথসভায় অংশ নেন।