1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পারস্য উপসাগর থেকে ভেসে আসবে আমেরিকান শক্তির হাড় গুঁড়ো হওয়ার শব্দ: ইরানের জেনারেল ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রতিবন্ধী নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি পিতার, বুকে জড়িয়ে ঘরে ফিরছেন মা দেবীগঞ্জে ইউএনওর ওপর হামলা, জড়িতদের খুঁজতে পুলিশের তৎপরতা মাদারীপুরে,মাছ-মাংস ও সবজির বাজার উর্ধমূখী,ক্রেতাদের নাভিশ্বাস গভীর রাতে আগুনে ছাই ৫ দোকান—নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীরা! সলঙ্গায় অভাবের সঙ্গে লড়াই করা এক যুবকের অনুপ্রেরণার গল্প মারা গেছেন সাবেক উপমন্ত্রী ​কাঁঠালিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধ আহত, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ

রাজশাহীতে ৫৮% কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ, সবচেয়ে বেশি জয়পুরহাট-পাবনায়

আখিকুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৪১৯ বার পড়া হয়েছে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি আসনের মধ্যে নওগাঁ-২ আসনের ভোট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ভোট হচ্ছে ৩৮টি আসনে। এসব আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৩২টি। এর মধ্যে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ তথা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যাই তিন হাজার ১১৯টি। সে হিসাবে এই বিভাগে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮ শাতাংশের বেশি।
এদিকে এই বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৪ শতাংশেরও বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে জয়পুরহাট জেলায়। অন্যদিকে রাজশাহী জেলায় সবচেয়ে কম ৪০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটের দুটি আসনের ২৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৯টি, যা জেলার মোট কেন্দ্রের ৭৪ শতাংশের বেশি। শতাংশ হিসেবে এই জেলাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এদিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাবনা জেলা। এই জেলার পাঁচ আসনের ৭০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৯৬টি, যা মোট কেন্দ্রে ৭০ শতাংশের কিছু বেশি। তৃতীয় স্থানে থাকা বগুড়ার বগুড়া ৬৮ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। জেলার সাত আসনের ৯৬৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৬৬২টি।
এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি আসনের ৫১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২৫টি (৬৩ শতাংশ), নওগাঁয় ৭৭৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১৪টি (৫৩ শতাংশ), সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনের ৮৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬৬টি (৫২ শতাংশ), নাটোরের চারটি আসনের ৫৬৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪৫টি (৪৩ শতাংশ) কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। শতাংশের হারে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রাজশাহী জেলায়। এই জেলার ছয় আসনের ৭৭০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যা মোট কেন্দ্রের ৪০ শতাংশের কিছু বেশি।
রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ৩৩২ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার মোট ভোটার ২১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩০ জন, নারী ভোটার ১০ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৮ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মোট ভোটার ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৮ জন, নারী ভোটার ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪৩ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন। নওগাঁ জেলার মোট ভোটার ২২ লাখ ১৯ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৬ হাজার ২৫৬ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ১৩ হাজার ২৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন।
নাটোর জেলার মোট ভোটার ১৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সাত লাখ ৩১ হাজার ১৯০ জন, নারী ভোটার সাত লাখ ৩১ হাজার ৪৮২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। পাবনা জেলার মোট ভোটার ২১ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৬ জন, নারী ভোটার ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮১ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন।
সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ভোটার ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৬১০ জন, নারী ভোটার ১২ লাখ ৪২ হাজার ৪৮১ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৯ জন। বগুড়া জেলার মোট ভোটার ২৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৬ জন। পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ জন, নারী ভোটার ১৪ লাভ ৪২ হাজার ৬৪৯ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৬ জন। জয়পুরহাট জেলার মোট ভোটার সাত লাখ ৭৯ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার তিন লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৪ জন, নারী ভোটার তিন লাখ ৯২ হাজার ৫৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন সাতজন।
ভোটের জন্য প্রস্তুত রাজশাহী
প্রার্থীরা বলছেন, ভোটকেন্দ্রসহ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চান ভোটাররা। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন।
রাজশাহী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিুকর রহমান বাদশা জানান, যে দল নির্বাচন বয়কট করেছে তাদের এই শক্তিও নেই যে তারা ভোট বন্ধ করতে পারবে। তবে তারা ভোটের আগের দিন পাড়া-মহল্লায় ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। আমার নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে, কোনো সংঘাত নয়, ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে হবে।
রাজশাহী-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, চরাঞ্চল তো দুর্গম এলাকা। সেখানে যে ভোটকেন্দ্রগুলো আছে, সেগুলো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। আমি নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। তবে ওই চরাঞ্চলে আমাদের নেতাকর্মীরাও অতীতের মতো এখনো সজাগ আছে।
ভোটাররা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চান। বলেন, নির্বাচনে আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে আমাদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারব, যাকে খুশি বেছে নিতে পারব, নীরবে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারব— এমন পরিবেশ চাই।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান বলেন, রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি আসন রয়েছে। একটি সদরে, বাকি ৩৮টি রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এই আসনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com