ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনের পাঁচবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাই মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার ভোরে থাইল্যান্ডের বামরুনদগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বলে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ দলের পক্ষ থেকেও মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন ।
এমপি আব্দুল হাই লিভার সিরোসিস, নিউমোনিয়া, এ্যাজমা, ডায়াবেটিকস সহ বয়সজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন ।
সাম্প্রতি অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। সেখানে ১সপ্তাহ চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি হন। তখনই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে তবে ডাক্তার ও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে ছিলেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৬মার্চ ২৮ দিন আইসিইউতে ছিলেন। ১৬মার্চ ভোর ৬টার দিকে তিনি মারা যান বলে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে ঘোষনা দেয়া হয় । ঝিনাইদহ সহ দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের বর্ষীয়ান এ নেতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ঝিনাইদহে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
১৯৫২ সালের পহেলা মে শৈলকুপা উপজেলার মহম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। বাবা ফয়জুদ্দিন মোল্লা ও মা ছকিরন নেছা দম্পতির ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। দেশ স্বাধীনের পর আব্দুল হাই ঝিনাইদহ যুবলীগের আহ্বায়ক ও ১৯৭৩ সালে যুবলীগের মহকুমা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে ১৯৮৭ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।এর দুবছর পর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।এরপর কয়েকদফা সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন ।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ-১ শৈলকুপা আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৫বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুতে আ্ওয়ামীলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।