1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পারস্য উপসাগর থেকে ভেসে আসবে আমেরিকান শক্তির হাড় গুঁড়ো হওয়ার শব্দ: ইরানের জেনারেল ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রতিবন্ধী নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি পিতার, বুকে জড়িয়ে ঘরে ফিরছেন মা দেবীগঞ্জে ইউএনওর ওপর হামলা, জড়িতদের খুঁজতে পুলিশের তৎপরতা মাদারীপুরে,মাছ-মাংস ও সবজির বাজার উর্ধমূখী,ক্রেতাদের নাভিশ্বাস গভীর রাতে আগুনে ছাই ৫ দোকান—নিঃস্ব সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীরা! সলঙ্গায় অভাবের সঙ্গে লড়াই করা এক যুবকের অনুপ্রেরণার গল্প মারা গেছেন সাবেক উপমন্ত্রী ​কাঁঠালিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধ আহত, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ

সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় দুর্নীতির আতুরঘর ‘মিতা’ জুটির অবসান ঘটলেও রয়ে গেল মূল কারিগড়

মোঃফেরদাউছ মিয়া
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫
  • ২৪২ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির এক ভয়াবহ চক্র সক্রিয় ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিঠু)। স্থানীয়ভাবে ‘মিতা’ জুটি নামে পরিচিত এই দুজনের বিরুদ্ধে পৌর তহবিল লুটপাট, ভাউচার জালিয়াতি, ঠিকাদারদের জামানতের অর্থ আত্মসাৎ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নয়ছয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছিল।
২০২১ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে আব্দুল্লাহ আল মামুন পরাজিত হলে ‘মিতা’ জুটির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। কিন্তু দুর্নীতির মূল কারিগর, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিঠু), এখনো বহাল তবিয়াতে রয়েছেন। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন করা নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি একাধিকবার বদলি নিয়েও শেষ পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় ফিরে আসতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিঠু দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে আসছেন। শুধু তাই নয়, বর্তমানে নতুন উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল হক সরকারকেও তিনি নিজের দুর্নীতির চক্রে যুক্ত করেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, পৌরসভার স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
অনুসন্ধানে উঠে আসা গাইবান্ধার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আবদুল লতিফ হক্কানীর নিজ নামিও প্রতিষ্ঠানের জামানতের ১১ লাখ ২১ হাজার ৮২৯ টাকা তৎকালীন মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিঠু) মিলে আত্মসাতের করে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আবদুল লতিফ হক্কানী জানান, ২০২০ সালে কাজ সমাপ্তির পর জামানতের টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করা হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ তা ফেরত দেয়নি। পরবর্তীতে প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশের পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিন যুগের বেশি সময় ঠিকাদারি করেছি, কিন্তু এমন দুর্নীতি আগে কখনো দেখিনি। আমার জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিঠু) এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার এক সহযোগী, উপ-সহকারী শহিদুল হক সরকার, জানান যে, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তবে, তিনি অতীতের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুর রশীদ রেজা সরকার বলেন, আমি বর্তমানে মেয়র নেই তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং আমি মেয়র থাকাকালীন এই বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় তদন্তের জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম।
এদিকে আরো অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগীরা এডিপি, ল্যাব এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করে তারা প্রকল্পের অর্থ লোপাট করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অনুসন্ধানে উঠে আসা তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক টি আই এম মকবুল হোসেন প্রামাণিক দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া এক অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, সাবেক পৌরসভার মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন ও উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিঠু) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া, হাট-বাজারের ইজারা ও পৌরকরের অর্থও এই মিতা জুটি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু তাই না দুর্নীতির বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গেলে মেয়র সাংবাদিকদের হুমকি দেন, গালিগালাজ করেন এবং মানহানির মামলার ভয় দেখান। বিশেষ করে, সাংবাদিক খালেদ হোসেন মেয়রের অনুসারীদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন, যা নিয়ে সে সময় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিলো।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দারা ইতিপূর্বে একাধিকবার পৌরসভার এই মিতা জুটির দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা জোরালো তদন্তের দাবি জানিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কারণে তাদের দুর্নীতির বিচার হয়নি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জের পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজির হোসেন বলেন, আমরা সব সময় স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পক্ষে কাজ করি। দুর্নীতি বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলেও, স্থানীয় সরকার প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে স্থানীয়দের। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে বহাল তবিয়তে থাকবেন, নাকি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এটি এখন সময়ের বড় প্রশ্ন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন পৌরবাসী।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com