1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পবিপ্রবিতে জিওস্পেশাল ও ড্রোন প্রযুক্তি বিষয়ক দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু সোনাতলায় সিনিয়র শিক্ষক জামাল উদ্দিনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী ও তার কোলে থাকা শিশুর মৃত্যু টেকনাফ সাংবাদিক সমিতি (টেসাস)-এর আহ্বায়ক কমিটি গঠন, অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার জোয়ার প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে রংপুরের তরুণীকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের একটি টাকাও ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করবো না: এমপি আবু তালেব মন্ডল। প্রশাসনের চোখকে ফাকি দিয়ে মান্দায় রাতের আঁধারে মাটি লুট: ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত কৃষিজমি ও জনজীবন। জামালপুরের ইসলামপুর মসজিদের ইমামের বিদায় ও দোয়া নীলফামারীতে ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন, পিরোজপুরে মালিককে জরিমানা

খুলনার কয়রায় ‘স্ট্রেচারে’ স্বাস্থ্যসেবা: চালক সংকটে ৬ মাস গ্যারেজে ২ অ্যাম্বুলেন্স

এস এম এ রউফ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

​উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার শেষ ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে এই হাসপাতালের দুটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সই গ্যারেজে বন্দি হয়ে আছে। কারণ—গাড়ি আছে, তেল আছে, কিন্তু নেই কোনো চালক। ফলে মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতি মায়েদের জেলা শহরে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি আর অতিরিক্ত অর্থব্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষ।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে কর্মরত চালক মোঃ আব্দুল মজিদকে দিঘলিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। এরপর থেকে কয়রায় আর কোনো স্থায়ী চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে (আউটসোর্সিং) দিয়ে নামমাত্র জরুরি সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

​এদিকে, জাইকার অর্থায়নে পাওয়া অত্যাধুনিক অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সও চালক ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ১২১ কিলোমিটার দূরের জেলা শহরের হাসপাতালে যেতে যেখানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ছিল একমাত্র ভরসা, সেখানে চালক না থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা ভাড়া করা মাইক্রোবাসই এখন মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​ভৌগোলিক কারণে কয়রা সদর থেকে দক্ষিণ বেদকাশীর মতো এলাকাগুলোর দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার পর্যন্ত। উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি রাসেল আহাম্মেদ বলেন:

​”কয়রা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। জেলা সদর এখান থেকে প্রায় ১১০-১২০ কিলোমিটার দূরে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বা জরুরি প্রয়োজনে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে তিন-চারগুণ বেশি ভাড়ায় বেসরকারি গাড়ি নিতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র রোগীরা। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।”

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বীকার করেছেন এই সংকটের কথা। তিনি বলেন, “একজন চালক দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানোর চেষ্টা করছি। তবে স্থায়ী চালক নিয়োগ ছাড়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”

​বিষয়টি নিয়ে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি জটিলতার কারণে নতুন চালক নিয়োগে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কয়রার মতো দুর্গম এলাকার কথা বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত একজন চালক পদায়নের চেষ্টা চলছে।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, অবিলম্বে দক্ষ চালক নিয়োগ দিয়ে গ্যারেজে পড়ে থাকা গাড়ি দুটি সচল করা হোক। জাইকার দেওয়া গাড়িটি যদি উপজেলা পরিষদের অধীনে এনে চালু করা যায়, তবে দক্ষিণ উপকূলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com