ঈদ আনন্দের মধ্যেও সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ থাকেনি, নানাস্থানেই ঘটেছে হামলার ঘটনা। আসলে দেশের সর্বত্রই বেপরোয়া অপরাধীরা সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলে পড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা থাকার সুযোগ লুফে নিচ্ছে তারা।
দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার চরফ্যাশন উপজেলা প্রতিনিধি জাহিদ আদিত্যে’র উপর যে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইদানিং প্রায়ই ভোলাতে সাংবাদিক হয়রানি, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সেখানেও হামলাকারীরা বরাবরই বুক ফুলিয়ে বিচরণ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকার দোহারে আতশবাজি গায়ে ছুড়তে নিষেধ করার মতো তুচ্ছ ব্যাপারেও সাংবাদিকের উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঈদের দিন সকালে সাংবাদিক শামীম আরমানকে লাঞ্ছিত এবং তার বাসায় হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে। শামীম আরমান চ্যানেল-২৪’র ও মানবজমিনের প্রতিনিধি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি ইংরেজি দৈনিক দি ডেইলি ইভেনিং নিউজ এর সাংবাদিক কামরুল ইসলামের উপর প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে কামরুল ইসলাম (৫০)সহ রাফি রাইয়ান (৫) নামের এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়।
টঙ্গী বাজারস্থ ভাওয়াল বিপনির দোকানি শীপু বেপারী চাঁদ রাতে কেনাকাটার তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দেশবাংলা’র সাংবাদিক নাহিদ খানকে লাঞ্চিত করেছে। ভাওয়াল বিপনীর ব্যবসায়িরা জানান, মদ্যপানরত অবস্থায় শীপু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা তা মিমাংসা করে দিবো।
কোনো দেশে অস্থিরতা আর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ঘটলেই কেবল চারদিকে সহিংসতার চিত্র চোখে পড়ে, কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকারের স্থিতিশীল দেশে এতো কেন অসভ্যতা? কেন এতো বর্বরতা? নাকি সাংবাদিকদের হয়রানি, নির্যাতন, হামলা, মামলা করাটা সবচেয়ে সহজলভ্য বিষয়? এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রেও কি প্রশাসনকে নির্লিপ্ত থাকতে বলা আছে?