নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বেতাই নদীর তীরে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক রোয়াইলবাড়ি দুর্গ। স্থানীয়ভাবে ‘দরগাহ’ নামে পরিচিত অনন্য এই প্রত্নস্থাপনাটি শুধু কেন্দুয়ার নয়, বরং পুরো নেত্রকোড়া জেলার গর্ব ও আত্মপরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত এই সুরক্ষিত দুর্গ এলাকায় রয়েছে প্রধানত চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা—বারদুয়ারী ঢিবি, বুরুজ ঢিবি, ছাদবিহীন পুরোনো ইমারত ও ঐতিহ্যবাহী একটি কবরস্থান। আশির দশকে আবিষ্কৃত হওয়ার পর ১৯৮৭ সালে এটিকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
কেন্দুয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুর্গটি চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। ইতিহাস ও প্রকৃতির অপরূপ মেলবন্ধনের কারণে প্রতিনিয়ত বহু দর্শনার্থী ও পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। সম্প্রতি দুর্গ এলাকার সার্বিক পরিবেশে বেশ কিছু সংস্কারমূলক কাজ করা হলেও দর্শনার্থীদের সহজ যাতায়াত ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়ে গেছে।
বিশেষ করে, রোয়াইলবাড়ি বাজার থেকে দুর্গমুখী প্রধান সড়কের একটি অংশ এখনো কাঁচা থাকায় বর্ষাকালে চলাচলে চরম ভোগান্ত পোহাতে হয়। বৃষ্টির দিনে সড়কটির ওই অংশে কাদা জমে থাকায় পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াত কার্যত বিঘ্নিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘুরতে আসা পর্যটকদের জোরালো দাবি—যাতায়াতের কাঁচা সড়কটি দ্রুত পাকা ও সুপ্রশস্ত করার পাশাপাশি এখানে আধুনিক পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। দুর্গের আশপাশে পর্যাপ্ত টয়লেট, আধুনিক বিশ্রামাগার, মানসম্মত খাবারের দোকান ও থাকার সুব্যবস্থা করা হলে এটি পূর্ণাঙ্গ ও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে।
এ বিষয়ে রোয়াইলবাড়ির স্থানীয় বাসিন্দা ও কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের আত্মপরিচয় ও অহংকারের রাজসাক্ষী এই রোয়াইলবাড়ি দুর্গ। এর আধুনিকায়ন ও আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি দুর্গে যাতায়াতের সড়কটি দ্রুত উন্নত ও পাকা করা হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।”
ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে রোয়াইলবাড়ি দুর্গের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের।