সোনারগাঁয়ে ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের পর এবার আসবাব ও জানালার গ্রিল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে এই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল জলিল পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি এ ঘটনার জন্য সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের পরিবারকে দোষারোপ করেছেন।
গত বুধবার দুপুরে এ দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ভাঙচুর করা হয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়। আহত হন ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১ জন। তাদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় দুপক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে।
জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সঙ্গে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খাঁন, আব্দুল লতিফসহ ১০-১৫ জনের একটি দল লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাসস্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। তারা কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংর্ষষ হয়। এতে আব্দুর রউফ পক্ষের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হন। অন্য পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খাঁন ও ডালিম আহত হন।
সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ওই কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাব ও জানালার গ্রিল লুট করে নেওয়া হয়।
সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং আব্দুল জলিলের পক্ষের আহত সবুর খাঁন বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল জানান, আব্দুল রউফের স্ত্রী ও ছেলেরা ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল ও জানালার গ্রিল খুলে পিকআপে করে নিয়ে গেছেন। উল্টো দলীয়ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দলীয়ভাবে নিজেরা মীমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। মীমাংসা না হলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হবে।






