বাগেরহাটের মোংলায় আট বছরের এক নিষ্পাপ শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এতে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র হতাশায় ফুসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, মোংলার সিগন্যাল টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা মো. ইসমাইলের ছেলে সুমন (অভিযুক্ত) একই এলাকার প্রয়াত এনামুলের ৮ বছর বয়সী এতিম মেয়ে ভাবানাকে (ছদ্মনাম) গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সুমন শিশুটিকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে তার ওপর এই জঘন্য পাশবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের পর ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় ধর্ষক সুমন। ভয়ে ও আতঙ্কে শিশুটি প্রথম দু’দিন বিষয়টি গোপন রাখে। কিন্তু ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শিশুটি তার মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে। পরবর্তীতে মা কারণ জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি তার সাথে ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের সব বিবরণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রকাশ করে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধর্ষক সুমনকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মোংলা থানা পুলিশ অভিযুক্ত সুমনকে আটক করে হেফাজতে নিয়ে যায়।
বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এই নির্মম ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে জানান, একটি বাবা-হারা অসহায় শিশুর ওপর এমন জঘন্য নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি সুশীল সমাজ, প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধর্ষক সুমনের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন হীন কাজ করার সাহস না পায়।